নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কাপাসাটিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোছাঃ আফরোজা বেগম (২৫)-এর বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইল করে ভুয়া এফিডেভিট তৈরি করে অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, আফরোজা বেগম প্রথমে পারভেজ হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে চার বছর বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। সংসার শুরু হওয়ার প্রায় এক বছর পর পারভেজ জানতে পারেন, তাকে ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ে করা হয়েছে এবং এ বিয়ের কোনো কাবিননামা বা বৈধ কাগজপত্র নেই।
অভিযোগ রয়েছে, আফরোজা বেগম একাধিক পুরুষকে বিভিন্ন কৌশলে ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর অডিও-ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করতেন এবং অর্থ আদায় করতেন। এ ঘটনায় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন সংস্থার মহাসচিব নুরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন ভুক্তভোগীর নাম উঠে এসেছে।
এ কাজে তার সহযোগী হিসেবে তারা মিয়া (২৯) নামের এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী মিলাদ মিয়া জানান, তাকে ব্ল্যাকমেইল করে জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে ভুয়া এফিডেভিট তৈরি করে প্রায় ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই অর্থ দিয়ে আফরোজা বেগম অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন ঘর নির্মাণ করেছেন। যেখানে আগে একটি ভাঙাচোরা টিনের ঘর ছিল, বর্তমানে সেখানে পাকা ভবন দাঁড়িয়ে আছে।
ভুক্তভোগী মিলাদ মিয়া আরও অভিযোগ করেন, আফরোজা বেগম ও তার সহযোগীরা নিয়মিত তাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন এবং নানা ধরনের হয়রানি করছেন। এতে তার সামাজিক ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে আর কেউ এ ধরনের প্রতারণার শিকার হবে না।

